• শনিবার   ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ||

  • ফাল্গুন ১৬ ১৪২৬

  • || ০৫ রজব ১৪৪১

আজকের টাঙ্গাইল
৪২

ঘাটাইলে জাল সনদ ব্যবহার করে নিকাহ রেজিষ্টারের অভিযোগ

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে জাল সনদ ব্যবহার করে নিকাহ রেজিষ্টারের কাজ করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্টার কাজী মোহাম্মদ জাকারিয়া’র বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে একই ইউনিয়নের সাবেক নিকাহ রেজিষ্টার মোঃ আব্দুর রহমান আইন মন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্টার কাজী মোহাম্মদ জাকারিয়া উপজেলার বীরচারি গ্রামের আব্দুল ওয়াহাব মিয়ার ছেলে। তিনি যে সনদ ব্যবহার করে নিকাহ রেজিষ্টারের কাজ করছেন তা ভুয়া এবং জাল। তিনি আইন মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিবের স্বাক্ষর কম্পিউটার স্ক্যানারের মাধ্যমে জাল করে নিকাহ রেজিস্টার জাল সনদ তৈরি করেছেন।

২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর আব্দুর রহমানের লিখিত আবেদনের পেক্ষিতে বিষয়টি আইন মন্ত্রনালয় তদন্ত করে দেখতে পান মোহাম্মদ জাকারিয়া (নং বিচার-৭/২ এন১১৯/৭৮-৪৬৩) যে সনদ ব্যবহার করে কাজ করছেন তা মূলত কক্সবাজার সদর পৌরসভার ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের মোঃ সাইফুল্লাহ নামের এক ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় জাকারিয়ার নিকাহ রেজিষ্টারের জাল সনদের বিষয়টি প্রমানিত হয়।

পরবর্তীতে তৎকালীন আইন মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জিএম নাজমুছ সাদাৎ পত্রের মাধ্যমে জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ফেীজদারী মামলা রুজু করে তার কাছে রক্ষিত নিকাহ রেজিষ্টার বহি জব্দ করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে জেলা রেজিষ্টার নির্দেশ প্রদান করেন।

পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১লা নভেম্বর জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ফেীজদারী মামলা রুজু করা হয়েছে কিনা তা জানতে চেয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব বুলবুল আহমেদ জেলা রেজিষ্টারকে পত্র প্রদান করেন। একই পত্রে নতুন নিকাহ রেজিষ্টার নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত পাশ্ববর্তী দিগড় ইউনিয়নের কাজী আ: মালেক মিয়াকে দিঘলকান্দি ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্টারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এত কিছুর পরও জাকারিয়া দিঘলকান্দি ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্টার হিসাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, অথচ এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের কোন উদ্যোগ নেই।

সর্বশেষ গত ২৯ ডিসেম্বর আইন মন্ত্রনালয়ের বিচার বিভাগ বিচার শাখার সহকারী সচিব স্বাক্ষরিত পত্রে দিঘলকান্দি ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্টারের পদ শূন্য থাকলে এবং আদালতের স্থগিতাদেশ না থাকলে ঘাটাইলের সাব রেজিষ্টারকে উপদেষ্টা কমিটি কর্তৃক নিকাহ রেজিষ্টার নিয়োগের প্যানেল প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করতে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাজী সমিতির সভাপতি আ: মালেক মিয়া বলেন, জাকারিয়ার নিকাহ রেজিষ্টার সনদ নিয়ে ঝামেলা আছে। আমাকে অতিরিক্ত দয়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বয়সজনিত কারণে দুই ইউনিয়নে কাজ করা আমার জন্য কঠিন।’

দিঘলকান্দি ইউনিয়নের উত্তর সালেংকা জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ইউসুফ মিয়া জানান, জাকারিয়া একজন দলিল লেখক পাশাপাশি কাজীর কাজ করেন। শুনেছি তার কাজীর সনদ নাকি জাল। দিঘলকান্দি নিকাহ রেজিষ্টারের পুরাতন ভলিয়ম জেলা রেজিষ্টারের কাছে জব্ধ থাকায় কাবিনের নকল সংগ্রহ করতে এলাকাবাসীর ভোগান্তি হচ্ছে।

জাল সনদের বিষয়ে জানতে চাইলে জাকারিয়া বলেন, ‘আমার নিকাহ রেজিষ্টারের সনদ জাল নয়। সকল কাগজপত্র সঠিক আছে নিয়োগেও কোন সমস্যা নেই।’ বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এলাকার কিছু লোক না বুঝেই বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা সাব-রেজিষ্টার এ কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্টার জাকারিয়ার সনদের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়েও ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর