• রোববার   ০৭ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪২৭

  • || ১৫ শাওয়াল ১৪৪১

আজকের টাঙ্গাইল
১০৬

কালিপুরের রসালো লিচু, যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ৭ মে ২০২০  

মধুমাস জৈষ্ঠ্যের রসালো ফল লিচু। বাঁশখালীর অভ্যন্তরিণ হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে বছরের সেরা রসালো ফল লিচু। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও পোকামাকড়ের তেমন আক্রমণ না থাকায় বাঁশখালীতে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই লিচু বাজারে আসায় ও রমজান মাস হওয়ায় অপরদিকে করোনার প্রভাবে সৃষ্টসংকটে দাম ভালো না পাওয়ায় হতাশ বাগান মালিকরা। বাঁশখালী কালিপুরের রসালো লিচু রঙিন হয়ে ঝুলছে গাছে গাছে। মৌ মৌ গন্ধে মাতিয়েছে বাগান। চলতি বছরে লিচুর বাম্পার ফলনে শুধুমাত্র বাঁশখালীতেই ১০০ কোটি টাকার লিচু বিক্রির সম্ভাবনা দেখছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক। তবে চলতি বছর লিচুর বাম্পার ফলন হওয়ার সাথে পবিত্র রমজান মাস থাকায় লিচু বাগানিরা অধিক লাভের আশা করলেও করোনা সঙ্কটে লিচু বিক্রি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন এমনটি জানান ওই কৃষিকর্মকর্তা।

 

কালিপুরের লিচুর কদর সারাদেশেই। চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কালিপুর লিচুর জন্য বিখ্যাত যুগ যুগ ধরে। বৈলছড়ি, গুণাগরি, পুকুরিয়া, জঙ্গল জলদি, জঙ্গল চাম্বল সহ প্রায় প্রত্যেক  ইউনিয়নেই পাহাড়ি এলাকায় একই সাথে সমতলে লিচুর চাষ হয়ে আসছে বহুকাল থেকেই। বাণিজ্যিক ও ঘরোয়াভাবে উৎপাদিত এই লিচুর কদর দেশ জুড়েই। 

 

জানা গেছে, বাঁশখালী কালিপুরের ৩০০ হেক্টরসহ পুরো উপজেলায় সাড়ে ৬০০ হেক্টর বাগানে স্থানীয় জাতের লিচু উৎপন্ন হয়। এ ছাড়াও দক্ষিণ চট্টগ্রামে বাঁশখালীর কালিপুরে স্থানীয় জাত ছাড়াও রাজশাহী বোম্বে, বারি- ১, ২, ৩ ও ৪ এবং চায়না- ৩ জাতের লিচু বাগানো রয়েছে।

বাঁশখালী কালিপুরের লিচু অনেকটা দিনাজপুরের লিচুর মতো হলেও এটি আকারে একটু ছোট। কিন্তু স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়। তাই চট্টগ্রামবাসীর কাছে কালীপুরের লিচু বেশ প্রিয়।

 

বাঁশখালী উপজেলা কৃষি অফিসার আবু সালেক বলেন, 'প্রতি বছরই বাঁশখালীতে লিচুর ফলন বাড়ছে, উপজেলায় ২০১৫ সালে প্রায় ৫০ কোটি, ২০১৬ সালে ৬০ কোটি, ২০১৭ সালে ৭০ কোটি. ২০১৮ সালে ৮০ কোটি টাকা এবং ২০১৯ সালে প্রায় ৯০ কোটি টাকার লিচু উৎপাদিত হয়েছে। এবার তিনি ১০০ কোটি টাকার উপরে লিচু বিক্রির সম্ভাবনা দেখছেন।

 

মৌসুমের একেবারে প্রথম দিকেই বাজারে পাওয়া যায় বলে কালিপুরের লিচুর খ্যাতির রেয়াজটাও কমেনা। এবার লিচু উৎপাদনে লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলে জানান কালিপুরের লিচু চাষী মো. ইলিয়াছ। তাছাড়া পালেগ্রাম মাদ্রাসার লিচু বাগানেও ব্যাপক উৎপাদন আশা জাগিয়েছে লিচু চাষীদের।

 

সরেজমিনে, বাঁশখালী উপজেলার লিচু বাগানগুলোতে গিয়ে দেখা যায় গাছে গাছে থোকায় থোকায় পাকা লিচু ঝুলছে। উপজেলার পুকুরিয়া, সাধনপুর, কালিপুর হয়ে বৈলছড়ি পর্যন্ত ৪-৫ কিলোমিটার পাহাড়ি এলাকাজুড়ে সড়কের পাশে, বাড়ির আঙ্গিনায়, পাহাড় ও লোকালয়ের লিচু বাগানে এখন শুধু লিচু আর লিচু।

 

কালিপুরের লিচু বাগান মালিক মোঃ রাসেল মিয়া জানান, 'গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে তিনি করোনা সঙ্কটে লিচু বিক্রি নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। বর্তমানে খুচরা বাজারে শত প্রতি লিচু বিক্রি হচ্ছে ১৮০, ২০০, ২৫০ টাকা দরে। হাজারপ্রতি ১২শ লিচু পাইকারী বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২২শত থেকে ৩ হাজার টাকায়। বাঁশখালীতে বাজারে লিচু আসতে শুরু করছে কয়েকদিন হল। গত বুধবার (৬ মে) বাঁশখালী থেকে ৫ থেকে ৬ লক্ষ লিচু পাইকারে নিয়েগেছে দেশের বিভিন্ন উপজেলায়।'

 

অপর লিচু ব্যবসায়ী মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, এ বছর লিচুর ফলন যা হয়েছে তাতে এবার সাড়ে ৪ লাখ টাকার লিচু বিক্রির আশা করছেন তিনি। কিন্তু করোনা সঙ্কটের কারণে লিচু বিক্রি নিয়ে বেশ সংশয়ে আছেন বাগান মালিকরা। করোনা ভাইরাসের কারণে আজ পর্যন্ত কোন পাইকার যোগাযোগ করেনি। তাই এবার লিচু বিক্রি নিয়ে তিনি খুবই চিন্তিত বলে জানান তিনি।

 

উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা আবু ছালেক জানান, 'এবার চলতি মৌসুমের শুরু থেকে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় মৌসুমি ফল আম, কাঁঠাল লিচুর ভালো ফলন হয়েছে। করোনা সঙ্কটকালে বাঁশখালী কালিপুরের লিচু পরিবহন ও বিপণন প্রসঙ্গে তিনি জানান, কৃষিজাত পণ্য পরিবহনে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। কাজেই লিচু বিক্রি নিয়ে তেমন সমস্যা হবে না।'

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল
কৃষি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর